ভারতের ভূ – প্রকৃতি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন । ভূ-প্রকৃতির গঠন ও ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন বৈশিষ্টের পার্থক্য অনুযায়ী ভারতের ভূ-প্রকৃতিকে চার ভাগে ভাগ করা যায় ।
(i) হিমালয় পর্বত শ্রেণি : পৃথিবীর নবীনতম ভঙ্গিল পর্বত হিমালয় ভারতের উত্তর , উত্তর – পশ্চিম এবং উত্তর – পূর্ব দিক জুড়ে অবস্থিত । এটি পশ্চিমে পামীর থেকে পূর্বে অরুণাচলপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত । হিমালয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণিতে বিভক্ত – হিমাদ্রি , হিমাচল এবং শিবালিক যা 2400 কিমি দৈৰ্ঘ বিশিষ্ট ও 240 থেকে 320 কিমি প্রশস্ত ।
( a ) উচ্চ হিমালয় বা হিমাদ্রি — প্রায় 600 মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট ও তিনটি উচ্চতম শৃঙ্গ নিয়ে গঠিত । যথা মাউন্ট এভারেস্ট ( 8848 মিঃ ) K2 বা গডউইন অস্টিন ( 8611 মিঃ ) এবং কাঞ্চনজঙ্গা ( 8598 মিঃ ) এই অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গিরিপথ হল — শিপকিলা , জেলেপলা ও নাথুলা ।
(b ) নিম্ন হিমালয় বা হিমাচল — প্রায় 1500 থেকে 5000 মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট্য এবং উচ্চ হিমালয়ের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত । এটি অনেকগুলি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণি বিশিষ্ট অংশ । তার মধ্যে পিরপাঞ্জল দীর্ঘতম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এছাড়াও আছে ধৌলাধর ও মহাভারত পর্বতশ্রেণি
( c ) দক্ষিণাত্য হিমালয় বা বহিঃস্থ হিমালয়া — প্রায় 900 মিঃ থেকে 1200 মিঃ উচ্চতা সম্পন্ন এবং নিম্ন হিমালয় ও সিন্ধু – গাঙ্গেয় সমতল এর মধ্যে অবস্থিত । নিম্ন হিমালয় ও শিবালিকের মধ্যে অবস্থিত অনুদৈর্ঘ্য উপত্যকা দুন নামে পরিচিত । দেহরাদুন , কোতলিদুন এবং পাটলিদুন হল কিছু উল্লেখযােগ্য দুন অঞ্চল ।
(ii) সিন্ধু গাঙ্গেয় সমভূমি বা উত্তর সমভূমি : গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী উপত্যকা নিয়ে গঠিত এবং 2400 কিমি দৈর্ঘ্য ও 240 থেকে 320 কিমি প্রস্থ বিশিষ্ট । এই সমভূমি অঞ্চল ভারতের তিন ভাগের এক ভাগ ভূ – পৃষ্ঠ দখল করে অবস্থিত । এই সমভূমি দুটি ভাগে বিভক্ত । ( a ) উচ্চ সমভূমি অঞ্চল , যা বন্যা প্রবণ অঞ্চলের উপরে অবস্থিত ও পলি মাটি দিয়ে গঠিত । এই অঞ্চলটি পৃথিবীর অতি উর্বর অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি । ( b ) নিম্ন সমভূমি , যা বন্যার দ্বারা প্লাবিত ।
(iii) দাক্ষিণাত্য মালভূমি : উত্তর সমভূমি অঞ্চলের দক্ষিণে অবস্থিত । এই অঞ্চলের দুপাশে অবস্থিত পূর্ব এবং পশ্চিমঘাট পর্বত ভৌগোলিকভাবে এই অংশ ভারতে প্রাচীনতম অঞ্চল ।এটি গণ্ডয়ানা ভূ-প্রকৃতির একটা অংশ যা পৃথিবী সৃষ্টির গােড়ার সময় থেকে ছিল । এটি পেনিনসুলার মালভূমি নামেও পরিচিত ।উচ্চতম দাক্ষিণাত্য শিখর 2500 মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত । যার মধ্যে নীলগিরি পর্বত অন্তর্ভুক্ত ।
আরাবল্লি ও দাক্ষিণাত্য মালভূমি :
( a ) আরাবল্লি -এটি ভারতের প্রাচীনতম পর্বত , এর উচ্চতম শৃঙ্গ হল মাউন্ট আবুর গুরুশিখর গুজরাট সীমানার কাছে অবস্থিত ।
( b ) বিন্ধ্য পর্বতশ্রেণি – ভারতের উত্তরাংশ থেকে দক্ষিণাংশকে আলাদা করে এই পর্বত ।এই পর্বত 1050 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর গড় উচ্চতা প্রায় 3000 মি .।
( c ) সাতপুরা পর্বতশ্রেণি – নর্মদা ও তাপ্তি নদীর মধ্যে অবস্থিত ।এটি অনেকগুলি শৃঙ্গ নিয়ে 900 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং প্রায় 1000 মিটার উচ্চ ।
( d ) পশ্চিমঘাট পর্বত — ভারতের দাক্ষিণাত্য পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এবং এটি সংকীর্ণ উপকূলবর্তী সমভূমিকে আরবসাগর থেকে আলাদা করে ।এটি 1600 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর গড় উচ্চতা 915 থেকে 1220 মিটার ।
( e ) পূর্বঘাট পর্বত – এটি পশ্চিমঘাট পর্বতের মত উচ্চ না হলেও , এর কয়েকটি শৃঙ্গ 1000 মিটার পর্যন্ত উচ্চ ।এর গড় উচ্চতা 610 মিটার ।পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাটের ঠিক সংযােগস্থলে অবস্থিত তামিলনাড়ুর নীলগিরি পর্বত ।
(iv) উপকূলবর্তী সমতল : পশ্চিম উপকূলবর্তী সমতলের উত্তরাংশ ‘ কোঙ্কন ‘ এবং দক্ষিণাংশ ‘ মালাবার’ উপকুল নামে পরিচিত ।পূর্ব উপকূলবর্তী অংশ করমণ্ডল উপকূল নামে পরিচিত
( a ) পশ্চিম উপকূল — এটি উত্তরে আরব সাগর এবং পশ্চিমঘাটের মধ্যে গুজরাটের কচ্ছ উপকুল থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত ।এটি পর্যন্ত 1500 কিমি দীর্ঘ এবং মালাবার উপকূল , কর্ণাটকা উপকূল , কোঙ্কন উপকূল , মহারাষ্ট্র উপকূল ও গুজরাট উপকূলে বিভক্ত ।
( b ) পূর্ব উপকূল — এটি দক্ষিণে কন্যাকুমারী থেকে উত্তরে গঙ্গা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ।পূর্ব উপকূল বঙ্গোপসাগর ও পূর্বঘাট পর্বতের মধ্যে অবস্থিত । মহানদী , গােদাবরী , কৃষ্ণা এবং কাবেরী নদীর ব – দ্বীপ অঞ্চল পূর্ব উপকূলের অন্তর্ভুক্ত ।এটি উত্তরে উৎকল উপকূল এবং দক্ষিণে করমণ্ডল উপকূলের মধ্যে বিভক্ত ।



















